শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৫:০৩
ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ তাকি বাফকী (রহ.)-এর সাক্ষাৎ

আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ তাকি বাফকী (রহ.) ইরানের বিশিষ্ট আলেম ও নাহি আনিল মুনকারের ক্ষেত্রে অটল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। রেজা শাহের শাসনামলে শাহের স্ত্রীকে হযরত মাসুমা (সা.আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে বেপর্দা হওয়ায় বাধা দেওয়ার ঘটনা তার সাহসিকতা ও দ্বীনদারির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই মহান আলেমের জীবনে ঘটে যাওয়া ইমাম যামানা (আ.ফা.)-এর সাক্ষাতের এক চমৎকার ঘটনা আজও আলেম মহলে আলোচিত।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরাকের ধর্মীয় নগরী নাজাফ থেকে ধর্মীয় নগরী নাজাফ থেকে ইরান প্রত্যাবর্তনের পথে এক শীতল রাতে তিনি ইমাম (আ.ফা.)-এর দিদার লাভ করেন। রাতের বেলা প্রচণ্ড শীত। পথিমধ্যে তিনি এক চায়ের দোকানে (কফিশপ) পৌঁছান, যেখানে কিছু লোক জুয়ায় মত্ত ছিল। তিনি ছিলেন সদা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধে রত এক আলেম—যেমন রেজা শাহের আমলে তিনি বাদশাহর স্ত্রীকে হযরত মাসুমা (সা.আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে বেপর্দা হওয়ায় বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি ছিল এমন একটি এলাকা যেখানে অসৎকাজে বাধা দেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। তাই তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন হঠাৎ কেউ তাকে ডাকলেন, “হে মুহাম্মাদ তাকি!”

তিনি ফিরে তাকিয়ে দেখেন একটি সবুজ গাছ এবং অনুভব করেন চারপাশের আবহাওয়া যেন বসন্তময়। রাতটি তিনি সেখানেই কাটালেন।

সকাল হলে, দু'জন একসঙ্গে ইরানের পথে রওনা হন। হঠাৎ তার মনে প্রশ্ন জাগলো, এই ব্যক্তি কে? সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন শুষ্ক কাঠের মতো হয়ে গেলেন এবং কথা বলার ক্ষমতা হারালেন। তখন সেই মহান ব্যক্তি বললেন, “হ্যাঁ, আমি ইমাম জামানা (আ.ফা.)!”

আয়াতুল্লাহ বাফকী আরজ করলেন, “আমি কি আপনার খেদমতে থাকতে পারি?”
ইমাম (আ.) বললেন, “না।”
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তবে কোথায় আমি আপনার খেদমত করতে পারি?”
ইমাম (আ.ফা.) নির্দেশ দিলেন, “তুমি যখন কোমে পৌঁছাবে এবং সাবজেওয়ারেও।”

আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ তাকি কোমে পৌঁছে তিন দিন অবস্থান করলেন এবং ইমামের আগমনের প্রতীক্ষায় রইলেন, কিন্তু তিনি তাঁকে দেখতে পেলেন না।

একদিন কোমে, তেহরান থেকে আগত এক মহিলা তাঁর কাছে একটি প্রশ্ন করছিলেন। আয়াতুল্লাহ বাফকী (রহ.) মাথা নিচু করে তার প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন।

এরপর তিনি সাবজেওয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সাবজেওয়ারের কাছে পৌঁছে দেখতে পান, ইমাম (আ.ফা.) ঘোড়ায় চড়ে আসছেন।

শেখ মুহাম্মাদ তাকি (রহ.) জিজ্ঞেস করলেন, “হুজুর, আমি কোমে কেন আপনাকে দেখতে পাইনি?”
ইমাম (আ.ফা.) উত্তর দিলেন, “যেদিন তুমি ওই মহিলার সাথে কথা বলছিলে এবং তোমার মাথা নিচু ছিল, আমি সেখানেই উপস্থিত ছিলাম এবং তোমাকে দেখছিলাম।”

এ প্রসঙ্গেই পবিত্র কুরআনের বাণী—

 وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ

(সূরা তওবা: ১০৫)

সূত্র: দার মাহযারে আলেমান, পৃ. ২০৬

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha